প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের কৌশলগত প্রভাব বৃদ্ধি এবং আকাশ সীমায় অতিরিক্ত আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে নিজেদের সবচেয়ে উন্নত পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান জে-২০-তে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে চীন। সম্প্রতি প্রকাশিত একাধিক চিত্রে দেখা গেছে, যুদ্ধবিমানটির ডানার নিচে বাহ্যিক র্যাকে আটটি দূরপাল্লার এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র বহন করা হচ্ছে। সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের এই পদক্ষেপ বিমানটির রাডার এড়ানোর ক্ষমতা কিছুটা কমিয়ে আনলেও, ক্ষেপণাস্ত্র ধারণক্ষমতা বহুলাংশে বাড়িয়ে আকাশযুদ্ধে তাদের শক্তি বৃদ্ধি করেছে।
সামরিক পরিভাষায় এই বিশেষ বিন্যাসকে 'বিস্ট মোড' হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪ নভেম্বর প্রকাশিত নতুন এসব ছবিতে দেখা যায়, যুদ্ধবিমানের দুই ডানায় জোড়া হিসেবে চারটি র্যাকে মোট ৮টি পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র ঝুলছে। এর আগে অভ্যন্তরীণ বক্সে চারটি দূরপাল্লার ও দুটি স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রসহ জে-২০ মোট ৬টি ক্ষেপণাস্ত্র বহন করত। নতুন বাহ্যিক যুক্ততার ফলে বিমানটির তাত্ত্বিক ক্ষেপণাস্ত্র বহন ক্ষমতা দাঁড়িয়েছে সর্বমোট ১৪টিতে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাতের ক্ষেত্রে চিনের জন্য এই নতুন অস্ত্রবিন্যাস বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং বিমান এবং মাঝআকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্র্যাকার-ট্যাঙ্কারগুলোর (যেমন: KC-46, KC-135, E-2D) মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে এটি চিনের ফায়ারপাওয়ার অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে।
তবে সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, অতিরিক্ত অস্ত্র বহন করার ফলে যুদ্ধবিমানের বায়ুগতিবিদ্যা ও এর 'লো-অবজারভেবিলিটি' বা স্টিলথ সক্ষমতা ব্যাহত হয়। ডানার বাইরে ঝুলানো এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পৃষ্ঠতলের কারণে শত্রুদেশের রাডারে সহজেই বিমানটির অবস্থান ধরা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ফলে, বিমানটির টিকে থাকার সামর্থ্য এবং দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার সক্ষমতা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন চিনকে যুদ্ধের কৌশল অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন কনফিগারেশন ব্যবহারের নমনীয়তা দেবে। প্রথমত, চরম শত্রুপক্ষীয় এলাকায় যেখানে রাডার এড়ানো জরুরি, সেখানে অভ্যন্তরীণভাবে লুকানো ৬টি ক্ষেপণাস্ত্রসহ মূল স্টিলথ ভার্সন ব্যবহার করবে চিন।
দ্বিতীয়ত, প্রতিপক্ষের প্রাথমিক রাডার ও ডিফেন্স ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে গেলে কিংবা নিজের আকাশসীমার সুরক্ষায় এই 'বিস্ট মোড' ব্যবহার করে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব হবে।
পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সাধারণত ২০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। চিনের এমন দূরপাল্লার ও উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন মিসাইল নেটওয়ার্ক তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিমান কৌশল, ট্যাঙ্কার পরিচালনা ও সার্বিক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
কেবল ছবিতে বেশি সংখ্যক মিসাইল দেখা গেলেই যে চিনের সামরিক সাফল্য নিশ্চিত হয়ে যায়, এমনটি ভাবছেন না বিশেষজ্ঞরা। কারণ আধুনিক আকাশযুদ্ধে কতগুলো মিসাইল বহন করা হলো তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সঠিক সময়ে লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিতকরণ, রিয়েল-টাইম ডেটা লিংক, বিমানঘাঁটির লজিস্টিক সাহায্য এবং পাইলটের টিকে থাকার ক্ষমতা।
পাশাপাশি, চিন তাদের অভ্যন্তরীণ বক্সে মিসাইলের সংখ্যা বাড়াতে ডানা ভাঁজ করা যায় এমন পিএল-১৫ বা কিছুটা ছোট আকারের নতুন পিএল-১৬ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে, যা স্টিলথ সুবিধা অক্ষুণ্ণ রেখে ফায়ারপাওয়ার বাড়াবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তাইওয়ানের আশপাশের এলাকা কিংবা 'ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইন'-এ নিজেদের একক প্রভাব বিস্তার করতে চিন যে কোনো ধরনের সামরিক ছাড় দিতে রাজি নয়, জে-২০ বিমানের এই নতুন 'বিস্ট মোড' অবতার তারই এক উজ্জ্বল ও শক্তিশালী প্রদর্শন।
সামরিক পরিভাষায় এই বিশেষ বিন্যাসকে 'বিস্ট মোড' হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪ নভেম্বর প্রকাশিত নতুন এসব ছবিতে দেখা যায়, যুদ্ধবিমানের দুই ডানায় জোড়া হিসেবে চারটি র্যাকে মোট ৮টি পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র ঝুলছে। এর আগে অভ্যন্তরীণ বক্সে চারটি দূরপাল্লার ও দুটি স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রসহ জে-২০ মোট ৬টি ক্ষেপণাস্ত্র বহন করত। নতুন বাহ্যিক যুক্ততার ফলে বিমানটির তাত্ত্বিক ক্ষেপণাস্ত্র বহন ক্ষমতা দাঁড়িয়েছে সর্বমোট ১৪টিতে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাতের ক্ষেত্রে চিনের জন্য এই নতুন অস্ত্রবিন্যাস বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং বিমান এবং মাঝআকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্র্যাকার-ট্যাঙ্কারগুলোর (যেমন: KC-46, KC-135, E-2D) মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে এটি চিনের ফায়ারপাওয়ার অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে।
তবে সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, অতিরিক্ত অস্ত্র বহন করার ফলে যুদ্ধবিমানের বায়ুগতিবিদ্যা ও এর 'লো-অবজারভেবিলিটি' বা স্টিলথ সক্ষমতা ব্যাহত হয়। ডানার বাইরে ঝুলানো এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পৃষ্ঠতলের কারণে শত্রুদেশের রাডারে সহজেই বিমানটির অবস্থান ধরা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ফলে, বিমানটির টিকে থাকার সামর্থ্য এবং দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার সক্ষমতা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন চিনকে যুদ্ধের কৌশল অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন কনফিগারেশন ব্যবহারের নমনীয়তা দেবে। প্রথমত, চরম শত্রুপক্ষীয় এলাকায় যেখানে রাডার এড়ানো জরুরি, সেখানে অভ্যন্তরীণভাবে লুকানো ৬টি ক্ষেপণাস্ত্রসহ মূল স্টিলথ ভার্সন ব্যবহার করবে চিন।
দ্বিতীয়ত, প্রতিপক্ষের প্রাথমিক রাডার ও ডিফেন্স ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে গেলে কিংবা নিজের আকাশসীমার সুরক্ষায় এই 'বিস্ট মোড' ব্যবহার করে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব হবে।
পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সাধারণত ২০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। চিনের এমন দূরপাল্লার ও উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন মিসাইল নেটওয়ার্ক তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিমান কৌশল, ট্যাঙ্কার পরিচালনা ও সার্বিক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
কেবল ছবিতে বেশি সংখ্যক মিসাইল দেখা গেলেই যে চিনের সামরিক সাফল্য নিশ্চিত হয়ে যায়, এমনটি ভাবছেন না বিশেষজ্ঞরা। কারণ আধুনিক আকাশযুদ্ধে কতগুলো মিসাইল বহন করা হলো তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সঠিক সময়ে লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিতকরণ, রিয়েল-টাইম ডেটা লিংক, বিমানঘাঁটির লজিস্টিক সাহায্য এবং পাইলটের টিকে থাকার ক্ষমতা।
পাশাপাশি, চিন তাদের অভ্যন্তরীণ বক্সে মিসাইলের সংখ্যা বাড়াতে ডানা ভাঁজ করা যায় এমন পিএল-১৫ বা কিছুটা ছোট আকারের নতুন পিএল-১৬ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে, যা স্টিলথ সুবিধা অক্ষুণ্ণ রেখে ফায়ারপাওয়ার বাড়াবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তাইওয়ানের আশপাশের এলাকা কিংবা 'ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইন'-এ নিজেদের একক প্রভাব বিস্তার করতে চিন যে কোনো ধরনের সামরিক ছাড় দিতে রাজি নয়, জে-২০ বিমানের এই নতুন 'বিস্ট মোড' অবতার তারই এক উজ্জ্বল ও শক্তিশালী প্রদর্শন।
আন্তজার্তিক ডেস্ক